করোনায় কুবি শিক্ষকের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
 
মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যখন ঘরবন্দী সব শ্রেণী পেশার মানুষ। ক্যাম্পাস ছেড়ে যখন মৃত্যু আতংকে প্রহর গুনছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঠিক তখনি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে এক ভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও পিএইচডি গবেষক কৃষ্ণ কুমার সাহা।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওয়েব সেমিনারের (ওয়েবনার) মাধ্যমে ভার্চুয়াল এ প্লাটফর্মে যুক্ত করা হচ্ছে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গবেষক, শিক্ষাবিদদের। গেল ১৯ মে শুরু হওয়া এ ভার্চুয়াল সেমিনারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। প্রথমে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় কোভিড-১৯ এর প্রভাব নিয়ে অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করেন তিনি। পরে ২০ মে লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানের আলোচনায় পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন এবং সমসাময়িক পেশা বিষয়ক আলোচনা করা হয়। ২১ মে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা হক বাংলাদেশ শিক্ষা ব্যাবস্থার প্রশাখা ও বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে ২২ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, ২৩ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এন. এম. রবিউল আউয়াল, ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়নস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ, ২৬ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহরিয়ার ইসলাম এবং সর্বশেষ ৩১ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী অনলাইন সেমিনারটিতে যুক্ত হয়ে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেন। যেটি রেকর্ড করে পরবর্তীতে ইউটিউবে আপলোড করা হচ্ছে।
 
এ বিষয়ে ভার্চুয়াল সেমিনারটিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদ মামুন জানান, ‘এই প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন খ্যাতিমান ও বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের আলোচনা শোনা এবং আমাদের মতামত ওনাদের সাথে বিনিময় করতে পারছি। ফলে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আমরা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাবহারেও অভ্যস্ত হচ্ছি। যেটি করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট চলমান সংকটে ভবিষ্যতে আমাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলে আমার কাছে মনে হয়। এজন্য আমি এই সুন্দর আয়োজনের উদ্যোক্তা শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কৃষ্ণ কুমার সাহার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তরিকতায় এই আয়োজন ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।’
 
সেমিনারটির উদ্যোক্তা কৃষ্ণ কুমার সাহা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দী। তারা নিয়মিত পাঠ থেকে অনেকাংশে সরে গিয়েছে। তাই তাদেরকে পড়াশোনায় ফেরানোর জন্য মূলত আমার এই প্রচেষ্টা। একজন শিক্ষার্থী স্বাভাবিক সময়ে কোন স্কলারদের এতটা নিকটে এসে জ্ঞান চর্চা করতে পারে না, যা এখানে সম্ভব হচ্ছে। শুধু আমাদের বিভাগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং যেকোন শিক্ষার্থী দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে এই মিটিংয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। নিয়মিত দেশি-বিদেশি নির্দিষ্ট বিষয়ে স্কলারদের আমরা যুক্ত করার চেষ্টা করি। করোনা পরবর্তী সময়েও এটি অব্যাহত থাকবে। সর্বপরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’
 
এমডি/এমএ‌ইচ/বাংলাবার্তা