নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পছন্দের স্থানে পদায়ন, নিয়োগে সুপারিশ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে আশীষ চন্দ্র নন্দী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সিডিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি এসব তদবির করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত যাতায়াত এবং ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ঠেকানো, পছন্দের স্থানে পদায়ন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপারিশ করাকে কেন্দ্র করে সিডিএতে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব তদবিরের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। বিভিন্ন ভবনের সিডিএ অনুমোদন নিয়ে দিবে বলে লাখ টাকা হাতিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নগরের বাকলিয়া এলাকার জসিম উদ্দিন নামের এক ভবন মালিকের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশীষ চন্দ্র নন্দীর বিরুদ্ধে। এছাড়া মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা জমির উদ্দিন ও অক্সিজেন এলাকার বাসিন্দা মো. নাজিম উদ্দীন চৌধুরীর কাছ থেকেও ভবনের নকশা অনুমোদন দিবে বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আশীষ।
সিডিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তা দুঃখজনক ও অনৈতিক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগ রয়েছে, আশীষ চন্দ্র নন্দী বিভিন্ন সময় সিডিএর দপ্তরে যাতায়াত করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ কিংবা দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তাহলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে আশীষ চন্দ্র নন্দী বলেন, আমি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিট করি। তাই সেখানে আমার নিয়মিত যাতায়াত। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। তাই কিছু কাজ আমি করি। কিন্তু যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা।
