Saturday, April 25, 2026
Homeজাতীয়এন্ড্রু কিশোর, যার বেশিরভাগ গানেই ছিলো ‘অস্থায়ী পৃথিবী’র আভাস

এন্ড্রু কিশোর, যার বেশিরভাগ গানেই ছিলো ‘অস্থায়ী পৃথিবী’র আভাস

বিনোদন ডেস্ক:

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে রোববার (৬ জুলাই) ৬টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ক্যান্সার আক্রান্ত এন্ড্রু কিশোরকে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শফিকুল আলম বাবু জানান, দেশে ফিরলেও এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থা ভালো যাচ্ছিল না। রোববার (৬ জুলাই) সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলেন না তিনি। বিকেলে এন্ড্রু কিশোরের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছিল।

প্রায় ৯ মাস পর সিঙ্গাপুর থেকে গত ১১ জুন দেশে ফিরেন এন্ড্রু কিশোর। ২০ জুন তিনি রাজশাহীতে আসেন। তবে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। কারও সঙ্গেই কথা বলতে চাননি তিনি।

বাংলাদেশের কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর জন্ম ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে। তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তাই তিনি ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় ইত্যাদি। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন
এন্ড্রু কিশোরের দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের নাম সংজ্ঞা আর দ্বিতীয় জনের নাম সপ্তক। কিশোর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

সংগীত জীবন
প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর রাজশাহীর আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীত পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই সংগীত প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর এন্ড্রু কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গান শ্রেণীতে রাজশাহী বেতারের সঙ্গে তালিকাভুক্ত ছিলেন।

প্লেব্যাক জীবন
এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার গান শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি অন্যান্য প্লেব্যাক গান রেকর্ড করেন যেমন ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘ভালবেসে গেলাম শুধু’ এর মত জনপ্রিয় সব গান।

প্রতিষ্ঠান
এন্ড্রু কিশোর সংগীতশিল্পী ছাড়াও একজন ব্যবসায়ী। ১৯৮৭ সালে তিনি বরাবর আহমাদ ইউসুফ, আনোয়ার হোসেন বুলু, ডলি জহুর, দিদারুল আলম বাদল, শামসুল ইসলাম নান্টু সাথে টিভি নাটক, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য প্রযোজনার জন্য একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান ‘প্রবাহ’ শিরোনামে উদ্বোধন করেন।

এমএইচ/বাংলাবার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments