Thursday, January 15, 2026
Homeইসলামমহামারী থেকে মুক্তি পেতে তাহাজ্জুদ পড়ুন, ‘এই নামায কত রাকাত?

মহামারী থেকে মুক্তি পেতে তাহাজ্জুদ পড়ুন, ‘এই নামায কত রাকাত?


মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী


সারা বিশ্বে যখন কোরানা মহামারি আকার ধারণ করছে। তখন আল্লাহর কাছে এর পরিত্রাণ চাইতে হবে। তার কাছেই ক্ষমা চাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞ আলেমরা। আর এ ক্ষমা চাওয়ার উত্তম মাধ্যম হলো নামাজ। গভীর রাতে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে।


তাহাজ্জুদ নামাযের নূন্যতম রাকাত সংখ্যা কত? দুই বা চার রাকাত পড়লে কি তাহাজ্জুদ নামায হিসেবে গণ্য হবে? এই নামাযের নিয়ত চার রাকাত নামাযের নিয়তের মত নাকি দুই রাকাত নামাযের নিয়তের মত করতে হবে?


আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা (রা.) কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রমযানে নবীজীর নামায কেমন হত? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমযানে এবং রমযানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না।
প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না! এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন। -সহীহ বুখারী ১/১৫৪, হাদীস ১১৪৭; সহীহ মুসলিম ১/২৫৪, হাদীস ৭৩৮; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮, হাদীস ১৬৯৭; সুনানে আবু দাউদ ১/১৮৯, হাদীস ১৩৩৫; মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬, হাদীস ২৪০৭৩

রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো তাহাজ্জুদ নামায চার রাকাত পড়তেন, কখনো ছয় রাকাত পড়তেন। কখনো আট রাকাত পড়তেন। কখনো দশ রাকাত পড়তেন।
সুতরাং তাহাজ্জুদের নামায ১০ রাকাত পর্যন্ত পড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে আমরা সহীহ হাদীসে পাই। এর চেয়ে বেশি পড়া যাবে না, এমন নয়। যেহেতু এটি নফল নামায তাই যতো বেশি পড়া যায় ততোই সওয়াব। তাই ইচ্ছেমত পড়া যায়।


তবে চার রাকাতের কম পড়লে তাহাজ্জুদ হবে না, বিষয়টি এমনও নয়। তাই দুই রাকাত পড়লেও তা তাহাজ্জুদ নামায হিসেবেই গণ্য হবে। সময় কম থাকলে দুই রাকাত পড়ে নিলেও তাহাজ্জুদ নামায আদায় হবে।


রাতের এবং দিনের নফল নামাযের নিয়ত চার রাকাত করেও নিয়ত করা যায়, এমনিভাবে দুই রাকাত করেও নিয়ত করা যায়। এতে কোন সমস্যা নেই।
তাই আপনি তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত চাইলে ২ রাকাতের নিয়ত করে ২ রাকাত ২ রাকাত করে পড়তে পারেন। অথবা ৪ রাকাত ৪ রাকাত নিয়ত করে ৪ রাকাত করে পড়তে পারেন। (-ফাতওয়ায়ে শামী-২/৪৫৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/১৭২; আল বাহরুর রায়েক-২/৫৩; ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১১/২৮৭)


লেখক: পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments