চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
জুলাই-আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদ ও আহত হয় চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায়। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে যুবলীগের নেতা কর্মীরা। সেই হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাকুর বিরুদ্ধে। যার কারণে তিনটি হত্যা ও একটি বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামি হয়েছেন তিনি। ৫ আগস্টের পর গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি অনিবার্ণ ক্লাব নামের একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামূলক সংগঠনের মাধ্যমে আবারও সামনে আসেন তিনি।
ওই সংগঠনের নির্বাচন নিয়ে তৎপর হন তিনি। পরে শুক্রবার (১৮ জুলাই) এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫-২০২৭ সেশনের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে সভাপতি নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সহ সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন সাকু।
এ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎপর হতে চেয়েছিল মহানগর যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে নগরের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে৷ গ্রেপ্তারের পর থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেনি সমাজসেবা অধিদপ্তর। তার সমর্থক যুবলীগের অনেক নেতা-কর্মী চট্টগ্রামের সমাজসেবা অধিদপ্তরে ধর্ণা দিলেও এ ক্লাবকে ঘীরে যুবলীগের তৎপরতার অভিযোগে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।
অনিবার্ণ ক্লাবের একাধিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, হঠাৎ করে নির্বাচন দিয়ে যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে তৎপর হতে দেখা যায়। তারা ক্লাবের অফিসে নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু করে। পরে বিষয়গুলো পুলিশের নজরে আসলে যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে। পরে খবর পেয়ে অন্যরা গা ঢাকা দেয়। কিন্তু নির্বাচনে সাকুকে তারা সভাপতি নির্বাচিত করে। কিভাবে সাকু সভাপতি হয়ে সেটি সবাই জানে। এখন আবার যুবলীগের অনেক সদস্য সমাজসেবা অফিসে গিয়ে সেই কমিটির অনুমোদন নিতে তৎপর হয়েছেন। কিন্তু সমাজসেবা অফিস সাকুকে দিয়ে কমিটি অনুমোদন দিচ্ছেন না।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, অনির্বান ক্লাব নামের একটি সামাজিক সংগঠনের অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ক্লাবে বেশ কিছুদিন ধরে সাকু প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পরে পুলিশের তৎপরতায় আড়ালে চলে যান। সম্প্রতি আবারও ক্লাবে আসতে শুরু করেছেন তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, অনির্বান ক্লাবটিতে যুক্ত বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা। কয়েকমাস আগে ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন সাকু। পুলিশ বিষয়টি জানার পর নির্বাচন বন্ধ করে দেয় এবং আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। এরপর সাকুসহ অন্য নেতারা সটকে পড়েন। তবে সম্প্রতি তারা আবারও ক্লাবে তৎপর হওয়ার চেষ্টা চালান। পরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ যুবলীগ নেতা সাকুকে গ্রেপ্তার করে।
