মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলায় এমপির সদস্য পদ বাতিল ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি

161
নিজস্ব প্রতিবেদক:
 
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীদের হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা শাখা।
 
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
 
এতে প্রতিবাদ সমাবেশে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।এছাড়াও এসময় ওই সংসদের কুশপুত্তলিকা দাহ করে নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়।
 
প্রতিবাদ সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুব লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রক্ত দিয়েছেন মৌলভী সৈয়দ ভাই।আজ তার পরিবারের উপর হামলা করছে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। গত সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলাম। হঠাৎ তার পেটোয়া বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা করেছে। আমি এই ন্যাক্কার জনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এই ঘৃণ্য কাজের নির্দেশদাতা সাংসদের সদস্য পদ কেড়ে নেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
 
সমাবেশে উপস্থিত আরেক বক্তা চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মু্ক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, প্রেসক্লাবের মতো একটা জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনা অকল্পনীয়। একজন এমপির কিভাবে সাহস হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলা করার? সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে আমি প্রধানবন্ত্রীর কাছে দাবী জানাচ্ছি, এই কুলাঙ্গার এমপির সদস্য পদ বাতিল করে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হোক।
 
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সাংসদের সভাপতি ও সাবেকমন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরীর সন্তান জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার বাবা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর সাথে সারাদেশ ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত না করতো আপনারা আজ এমপি হতে পারতেন না। একইভাবে বাঁশখালীতে মৌলভী সৈয়দ আহমদ এবং সুলতানুল কবির চৌধুরীরা আওয়ামী আওয়ামী লীগকে শক্ত ভিত্তি না দিলে আপনি মোস্তাফিজ আজকে এমপি হতে পারতেন না। আজকে সুলতানুল কবির চৌধুরী নাই বলে আপনি চাকর থেকে জননেতা বনে গেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে হামলার জবাব আপনাকে দিতে হবে।
 
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (অর্থ) অাবদুর রাজ্জাক, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জয়নাল আবেদিন, বাঁশখালী উপজেল মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক ফয়সাল জামিল চৌধরী সাকি প্রমুখ।
 
 
এসএইচ/এফএম/বাংলাবার্তা