২০ আফগান সরকারী বন্দীকে মুক্তি দেবে তালেবান

ফাহিম আহমেদ শাফায়াত


তালেবানের মুখপাত্র সুহেল শাহীন তার এক টুইট বার্তায় বলেন, “আমরা আজ ২০ জন আফগান সরকারী বন্দীদের মুক্তি দেব”। সশস্ত্র এই গ্রুপের মুখপাত্র আরও জানান যে তারা বন্দীদের আফগান রেড ক্রস এর কাছে হস্তান্তর করবে।

আফগানিস্তানের দক্ষিণের শহর কান্দাহারে এই বন্দীমুক্তি প্রক্রিয়া সংগঠিত হবে। আফগানিস্তানের যেকয়টি শহর বা অঞ্চল তালেবানের দখলে তার মধ্যে কান্দাহার অন্যতম। ধারণা করা হয় সেখানে প্রায় ১৫০০ হাজার আফগান সেনা ও কর্মকর্তা এবং সরকার সমর্থিত লোকজনদের বন্দী করে তালেবানরা। সেখান থেকে ২০ জনকে মুক্তি দেবে তালেবানরা। যাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্দী করা হয়।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি, কাতারের রাজধানী দোহায় আমেরিকার সাথে তালেবানদের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যা আফগান সরকার ও সেদেশের জনগন স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানায়। এমনকি বিশ্ব নেতারাও বিশ্বাস করেছিল এ চুক্তি শান্তি ফিরিয়ে আনবে। সেখানে বলা হয়েছিল আফগান সরকার ৫০০ তালেবান বন্দীদের মুক্তি দিবে এবং তালেবানরা ১৫০০ সরকারী সেনা ও সরকার সমর্থিত লোকজনদের মুক্তি দেবে।

তবে তালেবান মুখপাত্র সুহেল শাহীন ৭ এপ্রিল এক টুইট বার্তায় জানিয়ে ছিল যে তারা আফগান সরকারের সাথে বৈঠক করতে চায় না। কারন সরকার বারবার নানা অজুহাতে তাদের বন্দীদের মুক্তির সময় বিলম্ব করছে।
পরবর্তীতে ০৮ এপ্রিল, বুধবার আফগান সরকার ৩০০ তালেবান বন্দীদের মুক্তি দেয়। তখন আফগান জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জাহিদ ফয়সাল বলেছিলেন, ” আমরা ৩০০ বন্দী মক্তি দেব। আসা করা যায় শান্তি প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে যাবে” বিলম্বে হলেও আফগান সরকার তাদের কথা রেখেছে।
এবার তালেবানের পালা। তারা যদি আফগান সরকারে বন্দীদের মুক্তি না দেয় তা হলে শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ হয়ে যাবে।

তবে তালেবান ও দেরে করেনি তারা ও ২০ জন সরকারী বন্দীর মুক্তির মাধ্যমে প্রমান করল তাদের ও শান্তি প্রক্রিয়ায় সম্মতি আছে।
এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. কোরেশি বলেন, ” আমেরিকা ও আফগানিস্তানের উচিত তাদের চুক্তিকে অবশ্যই সম্মান করা “।
আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জাহিদ ফয়সালের কথায় আর একটু শান্তির বানী শোনা যায় তিনি বলেন, ” আমরা আফগানিস্তানের জন্য মুখোমুখি শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত “।

(তথ্য সুত্র — আল-জাজিরা)

এসএস/এমএইচ/বাংলাবার্তা