ডিসির মোবাইলে ম্যাসেজ দিলেই বাড়িতে পৌঁছে যায় ত্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনো পরিস্থিতিতে কাজ করতে না পেরে যে সমস্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ বাড়ীতে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন অথচ মানসম্মান ও লজ্জায় কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারছেন না, অসহায় হয়ে পড়া সেই সমস্ত পরিবারের জন্য এক ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। তার মোবাইলফোনে ম্যাসেজ দিলেই তথ্য সংগ্রহ করে বাড়ি পৌঁেছ যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা।


প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাতক্ষীরাবাসীকে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে মাইকিং ও ফেসবুকে লাইভের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জনসমাবেশ এড়িয়ে চলা, তিন ফুট দুরত্ব বজায় রাখা, মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, হ্যান্ডিওয়াশ ও সাবান দিয়ে হাত মুখ ভালভাবে পরিস্কার করে ধুয়ে ফেলাসহ সামাজিক দুরাত্ব বজায় রেখে চলা ফেরা এবং অযাথা বাড়ির বাইরে না বের না হয়ে ঘরে বসে নিরাপদে থাকার আহবান জানিয়ে আসছিল। দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করলে তিনি কর্মহীন হয়েপড়া মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা বাসীকে আহবান করেন। বিশেষ করে যে সমস্ত মধ্যবিত্ত পরিবার লজ্জায় কারো কাছে ত্রাণ সহায়তা চাইতে পারছেন না তাদের জন্য মোবাইলে ম্যাসেজ দিতে আহবান জানান। এর পর থেকে মোবাইলে তথ্য পেয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। এই ত্রান সহায়তার কাজে বিভিন্ন গাড়ির সাথে এবার যুক্ত হয়েছে আরও ছয়টি মোটরসাইকেল।


শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে ছয়টি মোটরসাইকেল যোগে শহরের পলাশপোল, কাটিয়া, মধুমোল্লার ডাঙ্গী, কুখরালী, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এসএমএস করে খাদ্য সহায়তা চাওয়া পরিবারগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।


এদিকে, করোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় অসহায় হয়ে পড়া জেলার সাড়ে ৪২ হাজার পরিবারে মাঝে ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ সহায়তার জন্য উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার অনুকূলে আরও ১৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এসএস/এমএইচ/বাংলাবার্তা