Wednesday, January 21, 2026
Homeআন্তর্জাতিককরোনার ভয়ঙ্কর ৩ রুপ আবিষ্কার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুঝেই আক্রমণ করে এ...

করোনার ভয়ঙ্কর ৩ রুপ আবিষ্কার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুঝেই আক্রমণ করে এ ভাইরাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। জিনের গঠন বদলে প্রতিনিয়ত এই ভাইরাস নিজের চরিত্রই বদলে ফেলে আরও সংক্রামক হয়ে উঠছে।


বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি এত বেশি নিজেকে বদলাচ্ছে যে এর মতিগতি বোঝাই অসম্ভব হয় পড়ছে বিশ্বের বাঘা বাঘা ভাইরোলজিস্টদের কাছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রধান তিনটি প্রকারের সন্ধান মিলেছে। এই তিন প্রকারের করোনা মানুষের ইমিউন সিস্টেমের সক্ষমতা বুঝে আক্রমণ করছে এবং সে অনুযায়ী করোনভাইরাসটি নিজের স্ট্রেনগুলো পরিবর্তন করে মানুষকে সংক্রমিত করছে।
২৪ ডিসেম্বর থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ভাইরাসটির জিনগত ইতিহাসের ম্যাপ করা হয়েছিল। সেখানেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।


দেখা গেছে, করোনার তিনটি প্রকার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা ক্ষমতা ও রূপ রয়েছে। তিনটি দলের আক্রমণের টার্গেটও ভিন্ন ভিন্ন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, এখন চীনের উহান এবং পূর্ব এশিয়ায় যে ভাইরাসগুলো দেখা যাচ্ছে সেটা এই ভাইরাসের মূল প্রকার নয়। এটি মূলত নতুন একটি প্রজাতি। পরিবর্তিত এই স্ট্রেন (টাইপ-বি নামে পরিচিত) এবং মূল সার্স-কোভি -২ ভাইরাস থেকে উদ্ভূত যা বাঁদুড় কিংবা প্যাঙ্গোলিনের (টাইপ-এ) মাধ্যমে মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। টাইপ-এ ভাইরাস এখন আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যাচ্ছে। এছাড়া টাইপ-সি নামের আরেকটি প্রকার উহানের টাইপ-বি থেকে পরিবর্তিত হয়ে সিঙ্গাপুর হয়ে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে।


বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ভাইরাসটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে ক্রমাগত নিজেকে পরিবর্তন করে চলেছে। টিকে থাকার জন্য এই ভাইরাসের নিজেকে পরিবর্তনের অসম্ভব রকম ক্ষমতা রয়েছে।
গবেষকরা ভাইরাসটির এই পরিবর্তন পরীক্ষায় প্রাচীন মানুষের প্রাগৈতিহাসিক স্থানান্তর সনাক্ত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করেছেন। সার্স-কোভি-২ ভাইরাসের সংক্রমণে ট্র্যাক করার জন্যও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মূলত সার্স-কোভি-২ থেকেই কোভিড-১৯ এর জন্ম হয়।


কেমব্রিজের ম্যাকডোনাল্ড ইন্সটিটিউট অব আর্কিওলজিক্যাল রিসার্সের ফেলো ড. পিটার ফস্টার বলেছেন, তার দল ফেব্রুয়ারিতে ভাইরাসটির জিনোমিক বিবর্তন সন্ধান করতে শুরু করে। ভাইরাসটি আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এটা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
প্রায় ৬০ হাজার বছর পূর্বে আফ্রিকা থেকে মানুষের অভিবাসনের সন্ধান করতে ১৯৯০-এর দশকে যে সংশোধিত দীর্ঘ-প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগ করা হয়েছিল করোনার উৎপত্তি সন্ধানেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।


এমএম/এমএইচ/ বাংলাবার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments