অভিযোগকারী সেই মিটন চাকমা এখন কোথায়?

390

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাম সংগঠনের তিন নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পদযাত্রায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে ২ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ছাত্র মিটন চাকমা প্রক্টর বরাবর এক লিখিত দরখাস্ত দিয়ে এই অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয় প্রক্টর কার্যালয়।

কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর থেকেই আড়ালে চলে গেছেন মিটন চাকমা। কিছুক্ষণ পরেই মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। পরে সচল করলেও সাংবাদিকদের কল রিসিভ করছেন না তিনি।

এদিকে অভিযুক্ত তিন নেতাসহ সারাদেশের বাম সংগঠনগুলো উল্টো চবি প্রশাসনকে দায়ী করে জোরপূর্বক মিটন চাকমার স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, মিটন চাকমা তাদেরকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের বিষয়টি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত তিন বাম নেতা হলেন চবি ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনটির একাংশের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য আশরাফী নিতু এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের নেতা রাজেশ্বর দাশ ও শাহ মোহাম্মদ শিহাব।

অন্যদিকে মিটন চাকমা পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চবি শাখার আহ্বায়ক। তার অভিযোগ দায়েরের পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর ‘প্রগতিশীল সংগঠনসমূহের ব্যানারে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এটিকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে পিসিপির নামও উল্লেখ ছিল।

এদিকে সম্প্রতি চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারকে শোকজও করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’ নামে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন। সারাদেশের ৩১ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রও স্বাক্ষর করেছেন। তারা হলেন, দর্শন বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের সব্যসাচী জহির, একই সেশনের মার্কেটিং বিভাগের আজাদ হোসেন, অন্যজন ইমন সৈয়দ। তারা প্রত্যেকেই বাম সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত।

অভিযুক্ত তিনজনসহ সংগঠনগুলোর দাবি, মিটন চাকমাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেছে প্রক্টরিয়াল বডি। তবে এ বিষয়ে প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, এক শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের শোকজ করা হয়েছে। শোকজ হলো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া। অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই লিখিত জবাব দিয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

তিনি বলেন, মিটন চাকমা নামে এক ছাত্র তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। তাকে প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে কোনরকম জোর করা হয়নি। সে স্বেচ্ছায় অভিযোগ দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগের পর আড়ালে যাওয়ার আগেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিকের কাছে মিটন চাকমা স্বেচ্ছায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। বাংলাবার্তার কাছে তার প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। সে সময় মিটন চাকমা বলেন, আমি প্রক্টর বরাবর একটা দরখাস্ত দিয়েছিলাম। আমি দরখাস্তে স্পষ্ট লিখে দিয়েছি।’

 

বাংলাবার্তা