ঝালকাঠিতে পরকিয়ার জেরে নারী পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা

238
নিজস্ব প্রতিবেদক:
 

ঝালকাঠিতে পরকিয়ার জেরে এক নারী কনস্টেবল বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নাদিয়া আফরিন নামে ওই কনস্টেবলের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। তিনি ঝালকাঠি পুলিশ লাইনন্সে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী তরিকুল ইসলাম ও পরকিয়া প্রেমিক ফরহাদ একই স্থানে কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ ব্যারাকে বসেই নাদিয়া বিষপান করে আত্নহত্যার চেষ্টা করে। নাদিয়া আফরিন নামের নারী কনস্টেবল বিষপানে অসুস্থ হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। পরে তাকে ভর্তি করে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আড়াই ঘণ্টার মাথায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ কনস্টেবল তরিকুলের মা জেসমিন বেগম বলেন, তরিকুল গত দুই বছর পূর্বে প্রথম বিয়ে করেন। নাদিয়া তরিকুলের ব্যাজমেট ছিল। গত তিন মাস পূর্বে ঝালকাঠি পুলিশ লাইনে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পূর্ব থেকেই নাদিয়ার আর এক ব্যাজম্যান কনস্টেবেল ফরহাদের সাথে নাদিয়ার প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। তাই এ বিয়ে মানতে পারেনি কনস্টেবল ফরহাদ। ফরহাদ তাদের পূর্ব সম্পর্কের প্রমানাদি দিয়ে ব্লাকমেইল করে আসছিল।এ ঘটনায় তরিকুল ও নাদিয়ার মধ্যে কলহ চলে আসছিল।এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে তরিকুলের মায়ের উপস্থিতিতে কলহ শুরু হলে পুলিশ লাইনের আর.আই তাদের ব্যারাকে নিয়ে যায়। পরে তারিকুলের মা বাড়িতে চলে আসলে বিকেল ৫ টায় খবর পায় নাদিয়া বিষ পান করেছে এবং তার ছেলে তরিকুল আত্যহত্যার চেষ্টা করলেও বেঁচে যায়।ঘটনার পরে তার ছেলেকে আটক করা হয় এবং নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এবিষয়ে মুঠোফোনে কনস্টেবল তরিকুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান – নাদিয়াকে তিনি ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখ বিয়ে করেন।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহামুদ হাসান জানান, স্বামীর সাথে নারী কনস্টেবলের গত দুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই জেরেই নাদিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর থানার অদুরে ভাড়াটিয়া বাসায় বিষপান করেন। এতে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে প্রতিবেশিদের কাছে খবর পেয়ে স্বামী ছুটে গিয়ে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এসএস/এমএইচ/বাংলাবার্তা